গুগল সার্চ
ও ইউটিউব বিজ্ঞাপন থেকে আয় বেড়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের। তবে বিজ্ঞাপনী
আয় বাড়ার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ব্যয়ও ব্যাপক বেড়েছে। এতে বছরের প্রথম প্রান্তিকে
অ্যালফাবেটের মোট আয়ের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়তে দেখা গেছে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে বিনিয়োগকারীদের।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রয়টার্সের
প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যালফাবেট সম্প্রতি তাদের প্রান্তিক আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করেছে।
এতে দেখা গেছে, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা আয়ের সীমারেখা ২৭ শতাংশ থেকে ২২
শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ খরচ বেড়ে যাওয়ায় আয়ের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এর অবশ্য কারণ
রয়েছে। অ্যালফাবেট বর্তমানে বিভিন্ন স্টার্টআপ বা নতুন উদ্যোগগুলোয় বিনিয়োগ করছে। এ
ছাড়া ফোনভিত্তিক কম্পিউটিং বিশ্বের দিকে বেশি মনোযোগী হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় গাড়ি থেকে
শুরু করে হার্ডওয়্যার বিক্রি বা ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে জোর দিচ্ছে। এসব বিষয় অ্যালফাবেট
থেকে ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে বিনিয়োগকারীদের।
আটলান্টিক
ইকুইটিসের বিশ্লেষক জেমস কর্ডওয়েল বলেছেন, আমাজন ডটকম ইনকরপোরেশনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা
করতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে অ্যালফাবেট। এতে তাদের আয়ের অনেকটাই খরচ করতে হচ্ছে। তবে
তাদের বাড়তি মুনাফার বেশির ভাগই এসেছে এককালীন সেবা খাত থেকে। দীর্ঘমেয়াদি মূলধন খরচ
প্রথম প্রান্তিকে তিন গুণ বেড়ে ৭৩০ কোটি হয়েছে, যা গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে ছিল মাত্রা
২৫০ কোটি মার্কিন ডলার।
বার্তা সংস্থা
রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, বাজার বিশ্লেষকেরা সার্চ ও ইউটিউব বিজ্ঞাপন থেকে অ্যালফাবেটের
আয়ের যতটুকু ধারণা করছিলেন, তা প্রত্যাশা ছাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকেরা
ধারণা করে ছিলেন, বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩ হাজার ৩ কোটি মার্কিন ডলারের মতো আয় হতে
পারে। কিন্তু তা ৩ হাজার ১১১ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীদের কাছে বিজ্ঞাপনের
ওই আয় এটাই ভরসা দিচ্ছে যে প্রাইভেসি শঙ্কা সত্ত্বেও বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমেনি।
বিশ্বজুড়ে
এখন গুগলের ব্যবসাপ্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। গ্রাহক যাতে তাঁদের তথ্যে অধিক নিয়ন্ত্রণ
পান, সে বিষয়ে সোচ্চার হচ্ছেন অনেকেই।
ইভান ফেইনসেথ
নামের এক বিশ্লেষক বলেছেন, শক্তিশালী অর্থনীতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপনে অর্থ
ব্যয় করছে। গুগল মোবাইল ও ডেস্কটপ সার্চের ক্ষেত্রে আধিপত্য ধরে রেখেছে। ফেসবুকের সাম্প্রতিক
তথ্য ফাঁসের ঘটনা এতে খুব কম প্রভাব ফেলবে।
গতকাল সোমবার
গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই বলেছেন, ‘আমাদের অধিকাংশ বিজ্ঞাপন ব্যবসা সার্চকেন্দ্রিক,
এটা বোঝা জরুরি। আমরা খুব কম তথ্যের ওপর নির্ভর করে বিজ্ঞাপন দেখায়।’
রয়টার্স জানিয়েছে,
অ্যালফাবেটের প্রান্তিক মুনাফা হচ্ছে ৯৪০ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষকদের দেওয়া পূর্বাভাস
৬৫৬ কোটি মার্কিন ডলারের চেয়ে বেশি।
তবে গুগলের
এককালীন বেশ কিছু খরচ দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এইচটিসি করপোরেশনের দুই হাজার কর্মীকে
অধিগ্রহণ করার বিষয়টি। এ ছাড়া নতুন পণ্যের বিপণন ও ইউটিউবে স্ট্রিমিং খরচ বেড়েছে অ্যালফাবেটের।
গুগলের নির্বাহী
কর্মকর্তা বলেছেন, ইউটিউব, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ডেটা অ্যানালিটিকস টুলের মতো সেবা
ব্যবহার বাড়াতে শক্তিশালী কম্পিউটার ও ইন্টারনেট কেবল স্থাপনে খরচ বাড়ানো প্রয়োজন।
গুগলের বিজ্ঞাপনহীন সেবাগুলো থেকে আয় এসেছে ৪৪০ কোটি মার্কিন ডলার।
গুগল মেডিকেল
প্রযুক্তি ও ড্রোনের মতো ক্ষেত্রগুলো অ্যালফাবেটের জন্য ‘বাজি’
বলে মনে করা হয়। এসব ক্ষেত্র থেকে পরিচালন ব্যয় কমতে শুরু করেছে।
বিনিয়োগকারীর
অ্যালফাবেটের আরেক বাজি ‘ওয়েমো’ নামের স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রকল্পকে গুরুত্ব
দিচ্ছেন। চলতি বছর থেকে এ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য আয় আসতে শুরু করবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
গুগল বলছে,
তাদের থার্মোস্টাট নির্মাতা ‘নেস্ট’ ২০১৭ সালে ৭ কোটি ২৬ লাখ ডলার আয় করেছে,
যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি।

Post a Comment